মানুষের জীবন একটাই। তবে এক জীবনে বহু জীবন পার হয়ে মানুষকে তার শেষ মীমাংসা অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছতে হয়। এটা অবশ্য সাধারণ, স্বাভাবিক জীবন বলতে যা বোঝায়, সেই জীবন। অকাল মৃত্যু ঘটে যাদের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে; কিংবা শৈশবে বা কৈশোরে; তাদের গল্প ভিন্ন। সেটা দীর্ঘশ্বাস ও কান্না জড়ানো ট্রাজেডির শুরু ও শেষ।

সে রকম এক ট্রাজেডির মৃত্যু ঘটে আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় ছাত্র মহসিন আহমদের বেলায়। শুক্রবার, ১৬ জুন। প্রতিদিনের মতো ইফতার শেষে সিলেট শাহী ঈদগাহস্থ বাসার পাশের মসজিদে যায় মহসিন। কিন্তু এ যাওয়া যে তার শেষ যাওয়া কে বুঝেছিল তখন!
বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগামী সিএনজিচালিত অটোরিক্সা তাকে ধাক্কা দিলে সাথে সাথেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ পথচারীদের সহায়তায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নেওয়ার পথে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। যদিও উৎসুক জনতা অটোরিক্সাটি আটক করতে পেরেছিল কিন্তু তাদের অর্বাচীন চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঘাতক চালক পালিয়ে যায়।
শনিবার জকিগঞ্জের বাবুর বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। বলা বাহুল্য মহসিনের অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য সহ আত্মীয়স্বজন সকলেই এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।

নিরীহ, শান্ত-শিষ্ট মহসিন স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ছিল। বর্তমানে সে সিলেটস্থ স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ শাখার নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিল।

জকিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুন্দরারচক গ্রামের শহীদুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল এই মেধাবী ছাত্র মহসিন আহমদ।

আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।।


লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

**প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে