জকিগঞ্জ অনলাইন ডেস্ক।।

কাতারে অবস্থানরত প্রবাসীদের বহুদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন লেবার আইনে স্বাক্ষর করেন দেশিটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। কাতারের রাষ্ট্রীয় ভাষা আরবিতে লিখিত ২১ পৃষ্টার এই আইনে কাতারে প্রবাসীদের একামা, কফালা এবং এক্সিট পারমিট আইনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি ২০০৪ সালের প্রস্থান এবং রেসিডেন্স নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধিত আইন বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয়। আইনটির অফিসিয়াল নাম হলো ‘২০১৫ সালে (২১) নম্বর আইন-প্রবাসীদের কাতারে প্রবেশ, বাহির এবং অবস্থান বিষয়ক আইন’। নিম্নে আইনটির উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় উপস্থাপন করা হলো:

2015_10_28_20_27_15_iZQlZ6bjAOQMlO95LmT2k7EfCxD5ur_original

পেশা পরিবর্তন বা স্পন্সর বদল:

যদি কোনো প্রবাসীর তার কোম্পানি বা চাকরিদাতার সাথে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে তিনি বর্তমান চাকরিদাতা এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্য যে কোনো স্থানে চাকরি নেয়ার সুযোগ পাবেন। আর এই সুযোগ তার সাথে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই কেবল পাওয়া যাবে। কিন্তু যদি বর্তমান চাকরিদাতার সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে কোনো মেয়াদ না থাকে, তাহলে তিনি পাঁচবছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই সুযোগ পাবেন। (বর্তমান আইনে কফিল শব্দের পরিবর্তে চাকরিদাতা বলা হয়েছে।)

 

এক্সিট পারমিট বা খুরুজ সংক্রান্ত:

যদি কোনো কাতার প্রবাসী দেশের বাইরে যেতে চান, তাহলে তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষে তিনদিন আগে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবগত করতে হবে। যদি তার বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপত্তি থাকে, তাহলে একটি নির্দিষ্ট কমিটি তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে এবং সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। তবে সাধারণ ছুটিকালীন তাৎক্ষনিকভাবে খুরুজ প্রদান করা হবে। ইমার্জেন্সি খুরুজের ক্ষেত্রে ওই কমিটিই সিদ্ধান্ত দেবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

খুরুজের মেয়াদ:

একজন প্রবাসী সাধারণ নিয়মে কাতারের বাইরে একাধারে সর্বোচ্চ ছয়মাস অবস্থান করতে পাবেন, যদি তার ভিসার মেয়াদ থাকে। তবে পৃথক আবেদনক্রমে অনুমোদন সাপেক্ষ এক বছর পর্যন্ত কাতারের বাইরে থাকার সুযোগ থাকবে।

 

ওয়ার্ক পারমিট বা একামা সংক্রান্ত:

নতুন ভিসা নিয়ে আসা প্রবাসীদেরকে কাতারে আসার ৯০ দিনের মধ্যে একামা (আইডি/আরপি) গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একইভাবে কাতারে যারা ইতিমধ্যে বসবাস করছেন, তাদের একামা নবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের ভেতর নবায়ন করতে হবে। তবে কাতারে প্রবেশ করার ৩০ দিনের মধ্যে একামা গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে হবে।

 

রেসিডেন্ট কার্ড:

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল প্রবাসীদের জন্য রেসিডেন্ট কার্ড ইস্যু করবে। যাতে প্রবাসীর নাম, ছবি, স্বাক্ষর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে- যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।

 

ফ্যামিলি ভিসা:

একজন কাতার প্রবাসী তার স্ত্রীর ভিসা গ্রহণ করতে পারবেন। স্ত্রীর সাথে তার যদি ছেলে সন্তান থাকে এবং লেখাপড়া করে, তাহলে ২৫ বছর পর্যন্ত বাবা বা মায়ের স্পন্সরশিপে থাকতে পারবে। অপরদিকে মেয়ে সন্তান বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাবা বা মায়ের স্পন্সরশিপে থাকতে পারবে। নবজাতকের জন্মের ৯০ দিনের ভেতর তার ভিসা লাগাতে হবে যদি তার জন্ম কাতারে হয়ে থাকে। কিন্তু জন্ম যদি কাতারের বাইরে হয়, তাহলে তার জন্মের ছয় মাসের মধ্যে কাতারে প্রবেশ করতে হবে।

 

পাসপোর্ট:

চাকরিদাতা (স্পন্সর) ভিসা লাগানোর সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর হাতে তার পাসপোর্ট প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।

 

গৃহকর্মী বা খাদ্দামা ভিসা:

বিবাহিত ফ্যামিলি যদি স্বামী-স্ত্রী একসাথে অবস্থান করে, তাহলে খাদ্দামা রাখার ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু তালাক হয়ে যায় অথবা একত্রে না থাকে তাহলে খাদ্দামা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন সাপেক্ষ অন্যত্র চাকরি নিতে পারবে।

 

ভিসা বাতিল:

যদি কোনো প্রবাসী তার স্পন্সরের কাছে কাজ না করেন, তাহলে ২ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানাতে হবে। একইভাবে যদি কেউ ভিসা বাতিল করে নেন, তাহলে তা বাতিল হওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে দেশ (কাতার) ত্যাগ করতে হবে।

 

ভিজিট ভিসা:

ভিজিট ভিসা নিয়ে যারা কাতারে আসবেন, তাদের ভিসার মেয়াদ হবে মাত্র ৩০ দিন। এর বেশি থাকতে হলে তার ভিসাকে একামা ভিসাতে রূপান্তর করতে হবে অথবা ওই ভিসাকে নবায়ন করে নিতে হবে।

 

স্পন্সরের মৃত্যু জনিত অবস্থা:

যদি বর্তমান স্পন্সর ইন্তেকাল করেন অথবা কোনো কারণে মিসিং বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে যে কোনো প্রবাসী লেবার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষ অন্যত্র স্পন্সর বদল করার সুযোগ পাবেন।

 

মৃত প্রবাসী:

কোনো প্রবাসী কাতারে মারা গেলে এবং কাতারে দাফন করা হলে সব খরচ কাতার সরকার বহন করবে। কিন্তু যদি মৃত ব্যক্তি কোনো উত্তরাধিকারী তার মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে যেতে চান, তাহলে নিজ খরচে নিতে হবে।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে