আহমদ আল মারুফ

আহমদ আল মারুফ

জকিগঞ্জ বাজারের হোটেল লাকি আবাসিক -১ এর স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী কামাল আহমেদের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। আছে কেবল স্বজন হারা কান্না, আহাজারী আর শোকের মাতম। নিহত কামালের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আর জামাকাপড় হাতে নিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার স্ত্রী-সন্তানরা। রক্তাক্ত লুঙ্গি, বিছানা আর বিছানার চাদর সামনে পড়লেই ডুকরে কেঁদে উঠেন তারা।

ঈদের মাত্র তিনদিন আগে রুমে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করে পাষণ্ড খুনি নিহতের সৎভাই জাকির হোসেন। কামাল খুন হওয়ার পর থেকেই ভয় ও আতংক বিরাজ করছে নিহতের পুরো পরিবার জুড়ে।

কামাল আহমেদের ছোট ভাই জামাল আহমেদ বলেন- আমার বড় ভাইকে খুনি জাকির ঘরে ঢুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এখন আমরা ভয়, আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার বড় ভাইয়ের খুনের বিচার চাই।

নিহত ব্যবসায়ী কামাল ব্যবসার সুবাদে ছিলেন সর্বস্তরের মানুষের সাথে অত্যন্ত সু-পরিচিত, বিনয়ী ও জনপ্রিয়। বিশেষ করে জকিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে তার ছিলো খুবই আন্তরিকতা। তাই খুন হওয়ার পর থেকেই জকিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এক শোকসন্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। সবসময় কামাল আহমেদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বিভিন্ন স্থরের মানুষ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার দিন এবং এর পরদিনও বিভিন্ন স্থরের জনপ্রতিনিধি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ কামাল আহমেদের কবর জিয়ারত করে জকিগঞ্জ বাজারস্থ বাসায় ছুটে যাচ্ছেন। বাসায় গিয়ে সবাই শোকাহত পরিবারের আহাজারী ও কান্নার পরিবেশ প্রত্যক্ষ করছেন।
সবাই খুনি জাকিরসহ এই খুনের সাথে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় এনে সু-বিচার নিশ্চিত হওয়া তথা ফাঁসির দাবি জানাচ্ছেন প্রশাসনের প্রতি।
সবাই বলছেন- এই খুনের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে শান্ত জকিগঞ্জ উপজেলায় আরেকবার সু-বিচারের নজীর স্থাপিত হোক।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে