টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ। শুধু তাই নয় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে টাইগার দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছোঁয়াও ছিল না মাঠে। এমনকি শরীরী ভাষাও ছিল দৃষ্টিকটু। অথচ এ দলটি শেষ দুই-তিন বছরে ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছিলো।

তবে দলের এমন অবস্থাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খান। এটাকে শিক্ষাসফর হিসেবে দেখছেন এ ড্যাশিং ওপেনার! নিজেদের অবস্থান বুঝতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি। আর এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে বলে জানালেন ২৮ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজে পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশের প্রাপ্তি নিয়ে মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তামিম বললেন, ‘আমাদের সেরা সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ পারফর্ম করতে পারিনি। কোন সিরিজেই না। সব কিছু থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। আমাদের জন্য বড় শিক্ষাসফর ছিল এটা। আমাদের অভাব যা ছিল আমি নিশ্চিত ব্যাটসম্যান-বোলার কম-বেশি সবাই বুঝতে পেরেছি।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়বেন এটা জানতেন টাইগাররা। কিন্তু এতটা কঠিন হবে সেটা কি বুঝতে পেরেছিলেন? তামিমের ভাষায়, ‘কন্ডিশন কঠিন হবে এটা আমরা সবাই জানতাম। কিন্তু কন্ডিশনকে দোষ দিয়ে বা আমরা ওখানে অনেক দিন (৯ বছর) যাইনি এটা অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাই না। আমার কাছে মনে হয় দলগত ভাবে এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমরা যতটা সক্ষম আমরা অতটা খেলেতে পারিনি। দল হিসেবে বা ব্যক্তিগত ভাবে যদি খেলতে না পারি ম্যাটার করে না দেশে খেলছি না বিদেশে খেলছি। অবশ্যই কন্ডিশন একটু ভিন্ন ছিল, চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্ত আমরা এর চেয়ে ভাল পারফর্ম করতে পারতাম।’

এতকিছুর পরও আশাবাদী তামিম। টি-টুয়েন্টিতে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন তিনি, ‘এখনও দুটা ম্যাচ বাকি আছে। আশা করবো যে ওই সংস্করণে (টি-টুয়েন্টি) ভাল কিছু করবো।’ তবে আগের দুই সিরিজের শিক্ষাটা ভুলতে চান না তামিম। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে ভালো কিছু করার কথা বললেন এ ওপেনার, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা মনে হয়, এই যে একটা বাজে সফর হলো বা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলেতে পারিনি, এই জিনিসটা ভুলে গেলে হবে না। এই জিনিসটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।’

আর কি ধরণের কাজ করতে হবে তাও জানিয়ে দেন তামিম, ‘যদি ভুলে যাই তাহলে কিন্তু আমরা উন্নতি করবো না। এখানে কি অভাব ছিল এই জিনিসটা খুঁজে বের করতে হবে। তারপর ওটার উপরে পরিকল্পনা করে এগুতে হবে। আমরা জানি ২০১৯ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে। সেখানে খেলাও কঠিন আমাদের জন্য। এসব কিছু মাথায় রেখে এগুতে হবে। ব্যক্তিগত ভাবে বলেন আর দল হিসেবে বলেন।

ব্যক্তিগত ভাবে যে সমস্যা সাউথ আফ্রিকায় অনুভব করেছি সেটার উন্নতি করতে হবে। যদি না করি তাহলে তো এগোবে না।’ ইনজুরির কারণে টি-টুয়েন্টি সিরিজে না খেলেই দেশে ফিরেছেন দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে