‘নেশা’ গানের ভিডিও অনলাইনে ছাড়ার পর থেকেই একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কুসুম শিকদার। লিগ্যাল নোটিশের পর সর্বশেষ রোববার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮ ধারায় মামলার শিকার হলেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসানের পক্ষে মামলাটি করেন আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব।
কুসুম শিকদারের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাইয়াজ নুরুল হাসান জানালেন তারা এ ব্যাপারে আইনিভাবে এগোবেন ও ক্ষতিপূরণ চাইবেন।

সোমবার দুপুরে ব্যারিস্টার ফাইয়াজ বলেন, ‘তারা আদালতে মামলা করতে গিয়েছিল, কিন্তু আদালত তাদের মামলা আমলে না নিয়ে পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রমনা থানাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি মিথ্যে মামলা। মিথ্যে অভিযোগের জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাইব।’
কুসুম শিকদার লিগ্যাল নোটিশ ও মামলার ব্যাপারে বলেন, ‘লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে এটি একটি অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও যৌন উত্তেজক ভিডিও— এধরনের কোনো দৃশ্য বা ব্যাপার নেই এতে। দ্বিতীয়ত আমরা আইন জেনে, আইন মেনেই শুটিং করেছিলাম। একই সাথে আইন জেনে এবং মেনে এটি ইউটিউবে প্রচার করেছি।’

কুসুম শিকদার আরও বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়ে গেছে সেহেতু আমরা আইন অনুযায়ী এগোব।’

এদিকে কেন মামলা করলেন এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব বলেন, ‘মিউজিক ভিডিওর নামে যৌনতার কাটপিস ট্রেন্ডকে রুখতে এ মামলা করা। যাতে আগামীতে আর কোনো নেশা না হয়। আর কেউ নেশাগ্রস্ত না হন।’

মামলার পর ‘নেশা’ গানের ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেছিল ইউটিউব চ্যানেল বঙ্গবিডি। তবে তারা সোমবার বিকাল তিনটার দিকে আবার সেটি লাইভ করে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবিডির কর্মকর্তা আবদুল্লাহ জহির বাবু বলেন, ‘ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল ব্যাপারটি তা না। আমরা ভিডিওটি ইউটিউব থেকে হাইড করে দিয়েছিলাম। পরে আইনজীবীর পরামর্শে আবার পাবলিক করে দিয়েছি।’

রোববার মিউজিক ভিডিওর নামে পর্নোগ্রাফির অভিযোগে অভিনেত্রী কুসুম শিকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮ ধারায় মামলাটি করা হয়। আদালত রমনা থানাকে অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে তিন আগস্ট গানটির বৈধ-অবৈধ সব ভিডিও ও টিজার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব।

ই-মেইল, ডাক ও কুরিয়ার যোগে গানটির প্রকাশক ‘বঙ্গ’সহ গানটির মডেল কুসুম সিকদার ও খালেদ হোসাইন সুজনকে এ নোটিশ দেয় হয়। একই সঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব, সংস্কৃত মন্ত্রণালয় সচিব, তথ্যসচিবকেও নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশটির জবাবে তখন পাল্টা নোটিশ পাঠান কুসুম শিকদার। সে নোটিশে মিথ্যে অভিযোগের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয় অভিযোগকারীকে।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে