অর্বাচীনের আত্মকথা- ম.জ. ছালেহীনশিক্ষক এবং ছাত্র উভয়ে শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই শিক্ষাকে জাতীয় জীবনে ফলপ্রসূ ও কল্যাণপ্রদ করে তোলার জন্য ছাত্র-শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অপরিহার্য। জীবনের সঠিক উদ্দেশ্য ও আদর্শ তাদের সম্মুখে না থাকায় আজ ছাত্ররা দিশেহারা। ফলে তারা জীবনের ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না।

বর্তমান প্রজন্মের অনেক ছাত্রের মধ্যে বেয়াদবি করার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। যা তাদের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষকের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত দুর্ব্যবহার শিক্ষার্থীদের বিপথে যেতে বাধ্য করছে।

সম্প্রতি একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেই আমার লেখায় তুলে ধরছি।

আমার জনৈক ভাগনী সম্প্রতি তাদের এলাকার একটি প্রতিযোগিতায় সমগ্র উপজেলার মধ্যে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। কিন্তু তাদের বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষক হিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে শ্রেণিকক্ষে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।  তার প্রাপ্তিকে স্বজনপ্রীতি বলে শ্রেণিকক্ষে তুমুলভাবে বাকী শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। আমার ভাগনীটি খুবই নিরীহ, ভদ্র ও শান্তশিষ্ঠ মেয়ে। তাই লজ্জায়, অপমানে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বিষয়টি আমাকে জানালে আমি একজন অভিভাবক হিসেবে তাদের বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ সমাধান করেন। ওই শিক্ষক ক্ষমা প্রার্থনা করলে তখনকার মতো বিষয়টির সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য গতবছরও আমার এক ভাতিজির সেরা হওয়া নিয়ে ওই শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন নেতিবাচক আচরণ করলে তখনও তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষ সমাধান দিয়ে ওদের পাপের মাশুল দিয়েছিলেন!

কিন্তু আমার মনে হলো এভাবে শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের সাথে উগ্র আচরণ করেন, প্রতিনিয়ত হিংসার চোখে দেখেন তবে ওই সকল শিক্ষার্থীরা রাগে, দুঃখে, অভিমানে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে তবে এর দায়ভার কে নেবে?

একজন শিক্ষকের যেখানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আদর্শ স্থাপন করার কথা সেখানে এই রকম শিক্ষকের অপ্রত্যাশিত আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না?

একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকতুল্য। শিক্ষক যেমন মাতৃস্নেহে একজন শিক্ষার্থীকে সন্তান হিসেবে বুকে টেনে নিবেন; তদ্রুপ একজন শিক্ষার্থীরও শিক্ষককে তার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে চলা বাঞ্চনীয়।

যদিও ছাত্ররা অপরিপক্ক ও অপরিণত মন নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে পদার্পণ করে। শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ তাদের মধ্যে প্রবল থাকা সত্ত্বেও কোন মহৎ আদর্শ তাদের সামনে অনুপস্থিত। ছাত্রদের ভবিষ্যতের কল্যাণপ্রদ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদেরকেই গ্রহণ করতে হয়। তাই ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যবর্তী ব্যবধান দূর করতে হবে। উভয় পক্ষের পারষ্পরিক সহযোগিতা না থাকলে কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হতে পারে না।

মূলত শিক্ষকেরা মহৎ আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তারাই যথার্থ শিক্ষাগুরু। তাই ছাত্রদের নিজেদের মানুষের মত মানুষ হতে হলে শিক্ষকের পদপ্রান্তে বসে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের উন্নয়নে পারষ্পরিক সহনশীলতা ও সহযোগিতার বিকল্প নেই।

মোদ্দা কথা ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ে যদি পরষ্পরের মধ্যে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে তবেই শিক্ষার আদর্শ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

**প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে