হতদরিদ্র হলেও মেয়েদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেন মোস্তাফিজার রহমান। তাই অভাব থাকলেও স্কুলে পাঠিয়েছেন মেয়েদের। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। বখাটের অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে তার কিশোরী মেয়ে!

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার মাদারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিষ্টিকে মঙ্গলবার বিকেলে ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে মারধর করে বখাটে সোহেল রানা। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরেই বিষপানে আত্মহত্যা করে সে। পুলিশ রাতেই সোহেলের বাবা নূরুল ইসলাম, বড় ভাই রাসেল মিয়া ও তার সহযোগী যুগিবাড়ি গ্রামের আশরাফুল ইসলামকে আটক করেছে। ঘটনার পর পরই সোহেল আত্মগোপন করে।

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মিষ্টির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বখাটে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সোর্স লাগানো হয়েছে এবং প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আটক তিনজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চক দূর্গাপুর গ্রামের মিষ্টি নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে যুগিবাড়ি গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা উত্ত্যক্ত করত তাকে।

এলাকাবাসী জানায়, নিরক্ষর সোহেল রানা ঢাকায় রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করে। মিষ্টির কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে সে তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় মিষ্টির পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেল মিষ্টির গালে চড় মারতে শুরু করে।

মিষ্টির বান্ধবী প্রত্যক্ষদর্শী সান্তনা আক্তার, মাহফুজা খাতুন ও মুসলিমা আক্তার জানায়, তারা তিনজন স্কুল ছুটির পর একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে এসেই বখাটে সোহেল রানা বলে, ‘তোর জন্য আমি বাড়িছাড়া।’ এ কথা বলেই মিষ্টির গালে চড় মেরে চলে যায় সোহেল ও তার সহযোগীরা। বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু না বলেই বিষপান করে মিষ্টি। তাকে নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।

মিষ্টির বাবা মোস্তাফিজার রহমান এ ঘটনায় সোহেলকে গ্রেফতার ও বিচার করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, ‘বখাটে সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।’

মাদারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী জানান, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই মিষ্টিকে বখাটে সোহেল রানা নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। তখন শিক্ষকদের উদ্যোগে সামাজিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিষ্টিকে প্রাণ দিতে হলো।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে