এডিনসন কাভানির সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কটা যে আর বন্ধুত্বপূর্ণ নেই, বরং দুজনের সম্পর্কটা এখন আগুন-তপ্ত, রোববার অলিম্পিক লিঁ’ওর বিপক্ষে ম্যাচটি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নেইমার আসার আগে পিএসজির হয়ে পেনাল্টি বা ফ্রি কিক সাধারণত কাভানিই নিতেন। কিন্তু নেইমার এসে কাভানির সেই স্থানটা নিজের দখলে নিতে চাইছেন। সেটা খুব স্বাভাবিকও।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে পিএসজিতে এসেছেন নেইমার। তারকাখ্যাতিতেও কাভানির চেয়ে নেইমারই এগিয়ে। ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের হয়ে পেনাল্টি, ফ্রি কিক সাধারণত নেইমারই নেন। তা ছাড়া নেইমার বার্সেলোনার মতো ক্লাব ছেড়ে এসেছেন পিএসজিতে নেতা হবেন ভেবেই। কিন্তু তাকে এতোটুকু ছাড় দিতে নারাজ কাভানি। অহংবোধের লড়াইয়ে দুজনে তাই জড়িয়ে পড়েছেন প্রকাশ্য যুদ্ধে!

কেন ফ্রি কিক-পেনাল্টি শট নেওয়া নিয়ে দুজনের এই যুদ্ধ? পিএসজির স্প্যানিশ কোচ উনাই আমরি এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। নেইমার কিংবা কাভানিও ভেতরের কারণটা প্রকাশ করেননি। তবে ফ্রান্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা লেকিপ গবেষণা করে বের করেছে মজার এক কারণ। মৌসুম শেষে বাড়তি বোনাস পাওয়ার আশাতেই দু তারকার এই যুদ্ধ!

গত মৌসুমে পিএসজির সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন কাভানি। এই উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডের চুক্তিতে নাকি উল্লেখ আছে, এবারও যদি ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেন, তাহলে মৌসুম শেষে বাড়তি ১ মিলিয়ন ইউরো বোনাস পাবেন কাভানি! নেইমারের চুক্তিতেও এ রকম কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে কিনা লেকিপ তা বের করতে পারেনি। তবে কাভানি যে বাড়তি বোনাসের আশায় পেনাল্টি ও ফ্রি কিক থেকে গোল করার সুযোগ গুলো কাজে লাগিয়ে নিজের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে চাইছেন সেটা স্পষ্ট!

ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের বিভিন্ন শর্তে বোনাস ঘোষণা করে থাকে মূলত ওই খেলোয়াড়কে বাড়তি উজ্জীবিত রাখতে। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়েই পিএসজি কতৃপক্ষ যেন নিজেদের বিপদই টেনে এনেছে। রোববার ফ্রি কিক ও পেনাল্টি শট নেওয়া নিয়ে নেইমার ও কাভানি যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন, তা পিএসজির জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ। প্রথমে কাভানি ফ্রি কিক নিতে গেলেও তাকে তা নিতে দেননি নেইমার।

উল্টো স্বদেশী সতীর্থ দানি আলভেসের কাছ থেকে বল নিয়ে নিজেই শট নেন। তার কিছুক্ষণ পর নেইমারকে পেনাল্টি নিতে দেননি কাভানি। পরে তিনি নিজেই পেনাল্টি নেন। ফল, ওই ফ্রি কিক বা পেনাল্টি থেকে গোল পায়নি পিএসজি। নেইমারের ফ্রি কিকের মতো কাভানির পেনাল্টি শটও ঠেকিয়ে দেন লিঁ’ওর গোলরক্ষক। পেনাল্টির মতো সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়া পিএসজিকে ম্যাচটা জিততে হয় আত্মঘাতী গোলে!

দুই তারকার এই অহংবোধের দ্বন্দ্ব চলতে থাকলে পিএসজির আরও বড় ক্ষতিই হবে। কোচ উনাই আমরি তাই খোঁজে বেড়াচ্ছেন সমস্যা থেকে ‍উত্তরণের পথ। আপাতত স্প্যানিশ ভদ্রলোক নেইমার-কাভানির মধ্যে একটা পারস্পারিক সমঝোতার পথেই হাঁটতে চাইছেন। উনাই আমরি জানিয়েছেন সেই সমঝোতার পথে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব করতে না পারলে তিনি হাঁটবেন কঠিন পথে। কে পেনাল্টি, ফ্রি কিক নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি নিজে। সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে উত্তরে উনাই আমরি স্পষ্টই বলেছেন, ‘কে পেনাল্টি নেবে, এই সমস্যাটা আমরা পারস্পারিক সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান করতে চাই। সেটা সম্ভব না হলে আমিই সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, আমরা দলের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যাটা জিইয়ে রাখতে চাই না।’

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে