নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাঙালিদের বিয়ে পড়ালে কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক  বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তো অবশ্যই অন্য যে কোনো দেশের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি মানুষের বিয়ে আইনগতভাবেই করা যায় না। এটা যাতে না হয় সেজন্য সব কাজীদের সতর্ক করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য পার্বত্য জেলাগুলোতে কাজীদের একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, কারণ রোহিঙ্গারা তো এই দেশের নাগরিক নয়। কোনো রোহিঙ্গা নারী বা পুরুষের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নারী বা পুরুষের বিয়ে যাতে কোন কাজী না পড়ায়। যদি পড়ায় তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশি ছেলেদের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা মেয়েদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বর ও কনে দুজনেই বাংলাদেশের নাগরিক কিনা- জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এক্ষেত্রে গাফিলতি হলে দায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে এতে।

জাতিগত নিপীড়নে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অনেকদিন থেকে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। মিয়ানমারের সীমান্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকে রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে