• বৃহস্পতি. জানু 8th, 2026

অ্যাপলের নতুন নিরাপত্তা কৌশল ও সিইএস ২০২৬-এ অত্যাধুনিক অ্যাক্সেসরিজের চমক

Byনজরুল ইসলাম

জানু 7, 2026

আইফোনের নিরাপত্তায় যুগান্তকারী পরিবর্তন

প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপল সবসময়ই নিজেদের উদ্ভাবনী কৌশলের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি প্রযুক্তি জায়ান্টটি তাদের বেটা ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস ২৬.৩ (এ) সংস্করণ উন্মুক্ত করেছে, যার মধ্য দিয়ে আইফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মূলত ‘ব্যাকগ্রাউন্ড সিকিউরিটি ইমপ্রুভমেন্টস’ নামক একটি নতুন ফিচারের পরীক্ষা চালাচ্ছে তারা, যা ভবিষ্যতে আইফোনে নিরাপত্তা প্যাচ বা আপডেট পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটিকেই বদলে দিতে পারে। আইফোন ১১ থেকে শুরু করে আইফোন ১৭ প্রো পর্যন্ত কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারী, যারা ডেভেলপার ও পাবলিক বেটা প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত, তারা এই নতুন আপডেটের আওতায় আসছেন। এই আপডেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি প্রথাগত আইওএস আপডেটের মতো ডিভাইসে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনে না; বরং সাধারণ রিস্টার্টের মাধ্যমেই এটি আনইনস্টল বা মুছে ফেলা সম্ভব।

ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা আপডেট

অ্যাপলের এই নতুন পদক্ষেপে ব্যবহারকারীদের হাতে অধিক নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে। আইফোনের সেটিংস মেনু থেকে ‘প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ অপশনে গিয়ে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড সিকিউরিটি ইমপ্রুভমেন্টস’ সেকশনে এই আপডেটটি খুঁজে পাওয়া যাবে। চিরাচরিত আইওএস আপডেটের ক্ষেত্রে একবার ইনস্টল করার পর তা মুছে ফেলার সুযোগ থাকে না, কিন্তু নতুন এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা চাইলেই সেটিংস থেকে আপডেটটি সরিয়ে ফেলতে পারবেন। মূলত ব্যবহারকারীদের ওপর জোর করে কোনো আপডেট চাপিয়ে না দিয়ে বরং নমনীয়তা বজায় রাখতেই এই কৌশলের অবতারণা। অ্যাপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো আপডেটের কারণে ডিভাইসে সামঞ্জস্যতা বা কম্প্যাটিবিলিটিজনিত সমস্যা দেখা দেয়, তবে এই ফিচারটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং পরবর্তী আপডেটে উন্নত করে পুনরায় পাঠানো হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও নতুন কৌশলের কারণ

‘র‍্যাপিড সিকিউরিটি রেসপন্স’ নামক পুরনো পদ্ধতির স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে এই নতুন ব্যবস্থা। ২০২২ সালে আইওএস ১৬-এর সঙ্গে চালু হওয়া আগের পদ্ধতিটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে ২০২৩ সালে একটি বাগের কারণে অনেক ওয়েবসাইট ঠিকমতো প্রদর্শিত হচ্ছিল না, যা অ্যাপলকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করে। সেই ত্রুটিপূর্ণ অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার অধিক নির্ভরযোগ্য ‘ব্যাকগ্রাউন্ড সিকিউরিটি ইমপ্রুভমেন্টস’ ব্যবস্থা নিয়ে এসেছে তারা। এই ডুয়াল-ট্র্যাক বা দ্বিমুখী পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের কাজের ব্যাঘাত না ঘটিয়েই জরুরি নিরাপত্তা প্যাচগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে স্বয়ংক্রিয় ইনস্টলেশন চালু রাখতে পারেন অথবা ম্যানুয়াল মোডেও আপডেটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে যারা এই ব্যাকগ্রাউন্ড আপডেট এড়িয়ে যাবেন, তারা সাধারণ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ফিক্সগুলো পাবেন। বর্তমানে আইপ্যাড ওএস ২৬.৩ এবং ম্যাক ওএস টাহো ২৬.৩-এও এই ব্যবস্থাটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।

সিইএস ২০২৬: অ্যাপল ইকোসিস্টেমে নতুনত্বের ছোঁয়া

এদিকে সফটওয়্যার আপডেটের পাশাপাশি অ্যাপল পণ্যের হার্ডওয়্যার ইকোসিস্টেমেও এসেছে নতুনত্বের জোয়ার। লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিইএস ২০২৬-এ অ্যাপল সরাসরি অংশ না নিলেও, আইফোন ও ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি করা নানা অ্যাক্সেসরিজ বা অনুষঙ্গ পুরো ইভেন্টজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এবারের মেলায় স্মার্ট ক্যাট ফুড বাউল, আলোকসজ্জিত স্মার্ট লেগো ব্রিকস কিংবা রোবট ফোনের মতো অদ্ভুত সব গ্যাজেটের ভিড়েও অ্যাপল ভক্তদের জন্য কাজের কিছু পণ্যের দেখা মিলেছে। বিশেষ করে চার্জিং প্রযুক্তিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন, যেখানে অকি (Aukey) তাদের ম্যাগফিউশন সিরিজের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছে।

চার্জিং প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

সিইএস-এ প্রদর্শিত পণ্যগুলোর মধ্যে অকির ‘ম্যাগফিউশন ডেস্কহাইভ ৫এক্স প্রো’ বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। এটি মূলত একটি ৫-ইন-১ ডেস্কটপ চার্জিং স্টেশন, যা দেখতে বেশ ছিমছাম হলেও কার্যকারিতায় অত্যন্ত শক্তিশালী। মাত্র ৩.৭৬ x ৩.৭৬ x ৩.০৭ ইঞ্চির এই হাবটিতে ২০০ ওয়াটের পাওয়ার আউটপুট সুবিধা রয়েছে, যা একই সঙ্গে একাধিক ডিভাইসের চার্জিং চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এতে রয়েছে দুটি রিট্র্যাক্টেবল বা গুটিয়ে রাখার মতো ইউএসবি-সি ক্যাবল এবং ১৪০ ওয়াটের পিডি ৩.১ পোর্ট। পাশাপাশি এর অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কব্জাযুক্ত কিউআই২ (Qi2) ২৫ ওয়াটের ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাডটি ০ থেকে ৬৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো সম্ভব। অকি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৫০ ডলার মূল্যে এই ডিভাইসটি বাজারে আসবে। এছাড়া তারা ম্যাগফিউশন জেড প্লাস এবং ম্যাগফিউশন রিল ১০০০০ নামক আরও দুটি উন্নত চার্জিং সলিউশন প্রদর্শন করেছে, যা অ্যাপল ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।